কালোজিরা

কালিজিরা

কালোজিরা

কালোজিরায় ভিটামিন, স্ফটিকল নাইজেলোন, অ্যামিনো অ্যাসিড, স্যাপোনিন, ক্রুড ফাইবার, প্রোটিন, ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো লিনোলেনিক, ওলিক অ্যাসিড, উদ্বায়ী তেল, আয়রন, সোডিয়াম, পটাসিয়াম ও ক্যালসিয়াম রয়েছে।

১. ডায়াবেটিস সবচেয়ে বিপজ্জনক রোগ হিসেবে পরিণত হয়েছে। কালোজিরার তেল ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখতে সহায়তা করে। প্রতিদিন সকালে এক কাপ চায়ের সঙ্গে আধা চা চামচ তেল মিশিয়ে পান করুন।

২. ডায়েটের জন্য কালোজিরা দারুণ কাজ করে। রুটি ও তরকারিতে ব্যবহার করতে পারেন। অনেকেই মধু ও পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেয়ে থাকেন। কালোজিরা ওটমিল ও টক দইয়ের সঙ্গে যুক্ত করে খেলে বেশ উপকার পাবেন।

৩. লেবুর রস ও কালোজিরা তেল একসঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে ত্বকের অনেক সমস্যার সমাধান পেতে পারেন। লেবুর রস ও কালোজিরার তেল মিশিয়ে দিনে দু’বার মুখে লাগান। ত্বকে ব্রণ ও দাগ অদৃশ্য হয়ে যাবে।
৪. কালোজিরা তেল মাথাব্যথার জন্য একটি পুরানো ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে বলা হয়। এটি মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করুন।

৫. সরিষার তেলের সঙ্গে কালোজিরা তেল গরম করে হাঁটু বা অন্যান্য জয়েন্টগুলোতে ম্যাসাজ করতে পারেন। এটি জয়েন্টের ব্যথা থেকেও মুক্তি পেতে সহায়তা করে।

৬. কালোজিরায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায়, প্রদাহ, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হ্রাস করার ক্ষমতাসহ লিভারকে সুরক্ষিত করতে সহায়তা করে। কালোজিরা রাসায়নিকের বিষাক্ততা কমাতে পারে। লিভার ও কিডনি ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।

৭. কালোজিরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে । নিয়মিত কালোজিরা খেলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সতেজ থাকে। এতে করে যে কোনও জীবানুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেহকে প্রস্তুত করে তোলে এবং সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যের উন্নতি করে।

৮. সর্দি-কাশিতে আরাম পেতে, এক চা চামচ কালোজিরার তেলের সঙ্গে ১ চা চামচ মধু বা এক কাপ লাল চায়ের সঙ্গে আধ চা চামচ কালোজিরের তেল মিশিয়ে দিনে তিনবার খান। পাতলা পরিষ্কার কাপড়ে কালিজিরা বেঁধে শুকালে, শ্লেষ্মা তরল হয়। পাশাপাশি, এক চা-চামচ কালোজিরার সঙ্গে তিন চা-চামচ মধু ও দুই চা-চামচ তুলসি পাতার রস মিশিয়ে খেলে জ্বর, ব্যথা, সর্দি-কাশি কমে। বুকে কফ বসে গেলে কালিজিরে বেটে, মোটা করে প্রলেপ দিন একই সাথে।

৯. যারা হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভুগে থাকেন তাদের জন্য কালোজিরা অনেক বেশি উপকারী। প্রতিদিন কালোজিরার ভর্তা রাখুন খাদ্য তালিকায়। কালোজিরা হাঁপানি বা শ্বাস কষ্টজনিত সমস্যা দূর করে।

১০. নিয়মিত কালোজিরা খেলে দেহে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। এতে করে মস্তিস্কে রক্ত সঞ্চালনের বৃদ্ধি ঘটে; যা আমাদের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

১১. নিয়মিত কালোজিরা খাওয়ালে দ্রুত শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি ঘটে। কালোজিরা শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থতা এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও অনেক কাজ করে।

১২. যেসব মায়েদের বুকে পর্যাপ্ত দুধ নেই, তাদের মহৌষধ কালোজিরা। প্রসূতি মায়েরা প্রতি রাতে শোয়ার আগে ৫-১০ গ্রাম কালোজিরা মিহি করে দুধের সাথে খেলে মাত্র ১০-১৫ দিনে দুধের প্রবাহ বেড়ে যাবে। এছাড়া এ সমস্যা সমাধানে কালোজিরা ভর্তা করে ভাতের সাথে খেলেও ভাল। এছাড়া ১ চা-চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধুসহ দিন ৩বার করে নিয়মিত খেলেও শতভাগ উপকার পাওয়া যায়।

আমলকী

আমলকী Amloki Powder (Emblic)

আমলকি। ভেষজ গুণে অনন্য একটি ফল। সংস্কৃত ভাষায় এর নাম ‘আমালিকা’। এর ফল ও পাতা দুটিই ওষুধরূপে ব্যবহার করা হয়। একজন মানুষ যদি প্রতিদিন ৬ দশমিক ৫ গ্রাম আমলকী খান, তবে অনেক রোগ থেকেই মুক্ত থাকতে পারবেন। আমলকির গুণাগুণের জন্য আয়ুর্বেদিক ওষুধেও এখন আমলকির নির্যাস ব্যবহার করা হয়।

চলুন জেনে নিই আমলকী(Emblic) খাওয়ার  উপকারিতা সম্পর্কে-

. আমলকি চুলের টনিক হিসেবে কাজ করে এবং চুলের পরিচর্যার ক্ষেত্রে এটি একটি
গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি কেবল চুলের গোড়া মজবুত করে তা নয়, এটি চুলের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। এটি চুলের খুসকির সমস্যা দূর করে ও পাকা চুল প্রতিরোধ করে।
. আমলকির রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দূর করতে পারে। এছাড়াও এটি পেটের গোলযোগ ও বদহজম রুখতে সাহায্য করে।

. এক গ্লাস দুধ বা পানির মধ্যে আমলকি গুঁড়ো ও সামান্য চিনি মিশিয়ে দিনে দু’বার খেতে পারেন। এ্যাসিডেটের সমস্যা কম রাখতে সাহায্য করবে।

. আধা চূর্ণ শুষ্ক ফল এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে খেলে হজম সমস্যা কেটে যাবে। খাবারের সঙ্গে আমলকির আচার হজমে সাহায্য করে।

. প্রতিদিন সকালে আমলকির রসের সঙ্গে মধু মিশে খাওয়া যেতে পারে। এতে ত্বকের কালো দাগ দূর হবে ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে।

. আমলকির রস দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছড়াও চোখের বিভিন্ন সমস্যা যেমন চোখের প্রদাহ। চোখ চুলকানি বা পানি পড়ার সমস্যা থেকে রেহাই দেয়। আমলকি চোখ ভাল রাখার জন্য উপকারী। এতে রয়েছে ফাইটো-কেমিক্যাল যা চোখের সঙ্গে জড়িও ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

. প্রতিদিন আমলকির রস খেলে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং দাঁত শক্ত থাকে। আমলকির টক ও তেতো মুখে রুচি ও স্বাদ বাড়ায়। রুচি বৃদ্ধি ও খিদে বাড়ানোর জন্য আমলকী গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য মধু ও মাখন মিশিয়ে খাওয়ার আগে খেতে পারেন।

. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমায়। কফ, বমি, অনিদ্রা, ব্যথা-বেদনায় আমলকি অনেক উপকারী। ব্রঙ্কাইটিস ও এ্যাজমার জন্য আমলকির জুস উপকারী।

. শরীর ঠাণ্ডা রাখে, শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে, পেশী মজবুত করে। এটি হৃদযন্ত্র, ফুসফুসকে শক্তিশালী করে ও মস্তিষ্কের শক্তিবর্ধন করে। আমলকির আচার বা মোরব্বা মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা দূর করে। শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে।

১০. ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল লেভেলেও কম রাখাতে যথেষ্ট সাহায্য করে।

১১. আমলকীতে সলিউবল ফাইবার থাকে। এটি শরীর থেকে টক্সিক উপাদান বের করে দিতে সাহায্য করে এবং হজমে সাহায্য করে।

১২. সর্দি-কাশি : দীর্ঘমেয়াদি সর্দি-কাশি থেকে রক্ষা পেতে আমলকী বেশ উপকারী। মস্তিষ্কের শক্তি বাড়াতেও এটি খাওয়া যেতে পারে ।

আমলকী কেন খাব 

আমলকিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’। পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, আমলকিতে পেয়ারা  থেকে তিন গুণ ও কাগজি লেবুর চেয়ে ১০ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। আমলকিতে কমলালেবুর চেয়ে ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি, আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ বেশি, আমের চেয়ে ২৪ গুণ এবং কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। আমলকীর রস মধু দিয়ে খেলে চোখের বিভিন্ন ধরনের অসুখ ভালো হয়ে যায়, যেমন : কনজাংটিভ, গ্লুকোমা ইত্যাদি। এর মধ্যে ক্রমিয়াম রয়েছে, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খুবই উপকারী। আমলকী হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া পেশি শক্ত ও নমনীয় করতেও সাহায্য করে। আমলকী বয়সের বলিরেখা পড়তে দেয় না। এমনকি ক্যানসার প্রতিরোধেও বেশ সহায়ক এই আমলকী। এটি খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, আমলকী ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারে।

অড়হর_গাছ

অড়হর

অড়হর একটি ওষুধী গাছ। এর রয়েছে অনেক গুণ। এই গাছ ব্যবহার করে নানাবিধ অসুখ থেকে আরোগ্য লাভ করার সুয়োগ রয়েছে। বিশেষ করে জন্ডিস নিরাময়ে কাজ করে। এই গাছের গুনাবলি তুলে ধরেছেন ড. তপন কুমার দে তার ‘বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় গাছ-গাছড়ার’ বইয়ে।

জন্ডিস নিরাময়ে:-অড়হর পাতার রস দুই থেকে তিন চামস একটু লবন মিশিয়ে খাবার পর সামান্য গরম করে একবার খেতে হবে।

জিহবার ক্ষত:- অড়হরের কচি পাতা ভালো করে ধুয়ে চিবিয়ে চুষে খেলে মাড়ির জিহবার ক্ষত সেরে যায়।

কাশিতে:– অড়হর পাতার রস সাত থেকে আট চা চামচ একটু গরম করে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে খেতে হবে।ডায়াবেটিসে অড়হর পাতার রস একটু গরম করে খাবেন অথবা মূল আট থেকে ১০ গ্রাম ছেঁছে দুই কাপ পানিতে সেদ্ধ করে আধা কাপ ছেকে খেলে বেশি উপকার হয়।
সাপের দংশনে ও ফোলা –প্রদাহ অড়হর বিচি বাটা প্রলেপ ব্যবহার করা হয়।

পরিচিতি– অড়হর শাখা–প্রশাখাযুক্ত গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ।
এটি দুই থেকে আড়াই মিটার পর্যন্ত উচু হয়।
*গাছ শক্ত হলেও শাখা-প্রশাখা নরম।
*প্রতিটি বৃন্তে তিনটি করে পাতা থাকে।
*পাতাগুলি পাঁচ থেকে সাত সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা ও এক থেকে দেড় সেন্টিমিটার *চওড়া হয়।

অড়হর ডাল ও অড়হর গাছের যতসব উপকারীতা :
আয়ুর্বেদ মতে: অড়হর ডাল কষায়-মধুর,রস,শরীর শীতল করে,রুক্ষ, লঘু,মলরোধ করে,বায়ুজনক,মুখের কান্তি উজ্জল করে (বর্ণপ্রসাদক)। কফ,পিত্ত ও রক্তের দোষ নাশ করে।
* অড়হর ডাল খেলে শ্রবণশক্তির দোষ সারে,পিপাসা মেটে-শরীরে সব রকমের জ্বালা সারে।
* আগেই বলা হয়েছে অড়হর ডাল রুক্ষ-দই বা দূধ দিয়ে রান্না করলে এই রুক্ষতা নষ্ট হয়।
* পাতা সেদ্ধ করে জল দিয়ে কুচকুচি করলে দাঁতের ব্যথার উপশম হয়।
* জনডিস রোগীর পক্ষে অড়হরের পাতা খাওয়া(পাতা বেটে নিয়ে তার রস) খুবই   উপকারী।
*কাশি হলে এই পাতার ৭/৮ চামচ রস একটু গরম করে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে কাশি কমে যায়।
ডাইবেটিকস হলে অড়হর পাতার রস করে সকালে বিকেলে এক কাপ করে খেলে ভাল উপকার পাওয়া যায়। তবে এর মূলের রস আট দশ গ্রাম থেঁতো করে অল্প পানিতে সিদ্ধ করে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।

অড়হর একটি ওষুধী গাছ।

এর রয়েছে অনেক গুণ। এই গাছ ব্যবহার করে নানাবিধ অসুখ থেকে আরোগ্য লাভ করার সুয়োগ রয়েছে। বিশেষ করে জন্ডিস নিরাময়ে কাজ করে। এই গাছের গুনাবলি তুলে ধরেছেন ড. তপন কুমার দে তার ‘বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় গাছ-গাছড়ার’ বইয়ে।

১জন্ডিস নিরাময়ে:- অড়হর পাতার রস দুই থেকে তিন চামস একটু লবন মিশিয়ে খাবার পর সামান্য গরম করে একবার খেতে হবে।

জিহবার ক্ষত:- অড়হরের কচি পাতা ভালো করে ধুয়ে চিবিয়ে চুষে খেলে মাড়ির জিহবার ক্ষত সেরে যায়।

কাশিতে:– অড়হর পাতার রস সাত থেকে আট চা চামচ একটু গরম করে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে খেতে হবে।
ডায়াবেটিসে অড়হর পাতার রস একটু গরম করে খাবেন অথবা মূল আট থেকে ১০ গ্রাম ছেঁছে দুই কাপ পানিতে সেদ্ধ করে আধা কাপ ছেকে খেলে বেশি উপকার হয়।
সাপের দংশনে ও ফোলা –প্রদাহ অড়হর বিচি বাটা প্রলেপ ব্যবহার করা হয়।

পরিচিতিঃ– অড়হর শাখা–প্রশাখাযুক্ত গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ।
এটি দুই থেকে আড়াই মিটার পর্যন্ত উচু হয়।
*গাছ শক্ত হলেও শাখা-প্রশাখা নরম।
*প্রতিটি বৃন্তে তিনটি করে পাতা থাকে।
*পাতাগুলি পাঁচ থেকে সাত সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা ও এক থেকে দেড় সেন্টিমিটার *চওড়া হয়।

অড়হর ডাল ও অড়হর গাছের যতসব উপকারীতা :
আয়ুর্বেদ মতে: অড়হর ডাল কষায়-মধুর,রস,শরীর শীতল করে,রুক্ষ, লঘু,মলরোধ করে,বায়ুজনক,মুখের কান্তি উজ্জল করে (বর্ণপ্রসাদক)। কফ,পিত্ত ও রক্তের দোষ নাশ করে।
* অড়হর ডাল খেলে শ্রবণশক্তির দোষ সারে,পিপাসা মেটে-শরীরে সব রকমের জ্বালা সারে।
* আগেই বলা হয়েছে অড়হর ডাল রুক্ষ-দই বা দূধ দিয়ে রান্না করলে এই রুক্ষতা নষ্ট হয়।
* পাতা সেদ্ধ করে জল দিয়ে কুচকুচি করলে দাঁতের ব্যথার উপশম হয়।
* জনডিস রোগীর পক্ষে অড়হরের পাতা খাওয়া(পাতা বেটে নিয়ে তার রস) খুবই   উপকারী।
*কাশি হলে এই পাতার ৭/৮ চামচ রস একটু গরম করে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে কাশি কমে যায়।
ডাইবেটিকস হলে অড়হর পাতার রস করে সকালে বিকেলে এক কাপ করে খেলে ভাল উপকার পাওয়া যায়। তবে এর মূলের রস আট দশ গ্রাম থেঁতো করে অল্প পানিতে সিদ্ধ করে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।

অড়হর ডাল ও অড়হর গাছের যতসব উপকারীতা :
আয়ুর্বেদ মতে: অড়হর ডাল কষায়-মধুর,রস,শরীর শীতল করে,রুক্ষ, লঘু,মলরোধ করে,বায়ুজনক,মুখের কান্তি উজ্জল করে (বর্ণপ্রসাদক)। কফ,পিত্ত ও রক্তের দোষ নাশ করে।
* অড়হর ডাল খেলে শ্রবণশক্তির দোষ সারে,পিপাসা মেটে-শরীরে সব রকমের জ্বালা সারে।
* আগেই বলা হয়েছে অড়হর ডাল রুক্ষ-দই বা দূধ দিয়ে রান্না করলে এই রুক্ষতা নষ্ট হয়।
* পাতা সেদ্ধ করে জল দিয়ে কুচকুচি করলে দাঁতের ব্যথার উপশম হয়।
* জনডিস রোগীর পক্ষে অড়হরের পাতা খাওয়া(পাতা বেটে নিয়ে তার রস) খুবই   উপকারী।
*কাশি হলে এই পাতার ৭/৮ চামচ রস একটু গরম করে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে কাশি কমে যায়।
ডাইবেটিকস হলে অড়হর পাতার রস করে সকালে বিকেলে এক কাপ করে খেলে ভাল উপকার পাওয়া যায়। তবে এর মূলের রস আট দশ গ্রাম থেঁতো করে অল্প পানিতে সিদ্ধ করে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।

নাটোরের বিখ্যাত কাঁচাগোল্লা ইতিহাস

কাঁচাগোল্লা

নাটোরের বিখ্যাত কাঁচাগোল্লা নাম করন ঃ

কাঁচাগোল্লা সৃষ্টির রয়েছে চমৎকার কাহিনী। মিষ্টি রানি ভবানীর খুব পছন্দ ছিল। নাটোর শহরের লালবাজারের মধুসূদন পালের দোকান ছিল নাটোরের প্রসিদ্ধ মিষ্টির দোকান। রানি ভবানীর প্রাসাদে নিয়মিতই মিষ্টি সরবরাহ করতেন মধুসূদন পাল। দোকানে বেশ কয়েকটি বড় বড় চুলা ছিল। মধুসূদন এসব চুলায় দেড় থেকে দু’মণ ছানা দিয়ে রসগোল্লা, পানিতোয়া, চমচম, কালো জাম প্রভৃতি মিষ্টি তৈরি করতেন। এক দিন মধুুসূদনের ২০ কর্মচারীর সবাই হঠাৎ একদিন মিষ্টির দোকানের কারিগর আসেনি। মধুসূদনের তো মাথায় হাত! এত ছানা এখন কী হবে? এই চিন্তায় তিনি অস্থির। নষ্টের হাত থেকে রক্ষা পেতে ছানাতে তিনি চিনির রস ঢেলে জ্বাল দিয়ে নামিয়ে রাখতে বলেন। এদিকে রানির লোকেরা মিষ্টি নিতে এলো। তিনি ওই ছানাগুলো পাঠিয়ে দেন প্রাসাদে। এদিকে রানির লোকেরা মিষ্টি নিতে এলো। তিনি ওই ছানাগুলো পাঠিয়ে দেন প্রাসাদে। যেহেতু চিনির রসে ডোবানোর পূর্বে ছানাকে কিছুই করতে হয়নি অর্থাৎ কাঁচা ছানাই চিনির রসে ঢালা হয়েছে, কিন্তু রসগোল্লার ছানাকে তেলে ভেজে চিনির রসে ডোবানো হয়। তাই তার নাম করণ হয়েছে রসগোল্লা। এটা কাঁচা ছানার রসে ডোবানো হয়েছে বলেই এর নাম দেয়া হলো কাঁচাগোল্লা। কাঁচাগোল্লার স্বাদ রসগোল্লা, পানিতোয়া, এমনকি অবাক সন্দেশকেও হার মানিয়ে দেয়। এর রয়েছে একটি মিষ্টি কাঁচা ছানার গন্ধ যা অন্য কোন মিষ্টিতে পাওয়া যায়না।
১৭৬০ সালে অর্ধবঙ্গেশ্বরী বাংলার দানশীলা শাসনকর্তা রাণী ভবানীর রাজত্বকালে কাঁচাগোল্লার সুখ্যাতি দেশ-বিদেশে ছড়াতে থাকে। সেই সময় নাটোরে মিষ্টির দোকান ছিল খুবই কম। এসব দোকানে বিখ্যাত কাঁচাগোল্লা ছাড়াও অবাক সন্দেশ, রাঘবশাহী, চমচম, রাজভোগ, রসমালাই, পানিতোয়া প্রভৃতি মিষ্টি ছিল অন্যতম। তবে এর মধ্যে সবার শীর্ষে উঠে আসে কাঁচাগোল্লা। ফলে সে সময় জমিদারদের মিষ্টিমুখ করতে ব্যবহৃত হতো এই বিখ্যাত কাঁচাগোল্লা। এমনকি বিলেতের রাজ পরিবার পর্যন্ত এই কাঁচাগোল্লা যেত। আরও যেত ভারতবর্ষের সর্বত্র। রাজশাহী গেজেট পত্রিকাতেও কাঁচাগোল্লার সুখ্যাতির কথা বলা হয়েছে। কলকাতার বিভিন্ন পত্র-পত্রিকাতে সেই সময় কাঁচাগোল্লার সুখ্যাতি নিয়ে লেখালেখি হয়েছে। ১৮৪০ সালে দিঘাপতিয়ার রাজা প্রসন্ননাথ রায় কৃষ্ণ উত্সবে আসা ভক্তদের কাঁচাগোল্লা দিয়েই আপ্যায়িত করেন। তখন প্রতি সের কাঁচাগোল্লার দাম ছিল ত

দেশ-বিদেশে কাঁচাগোল্লা ঃ

১৭৬০ সালে অর্ধবঙ্গেশ্বরী বাংলার দানশীলা শাসনকর্তা রাণী ভবানীর রাজত্বকালে কাঁচাগোল্লার সুখ্যাতি দেশ-বিদেশে ছড়াতে থাকে। সেই সময় নাটোরে মিষ্টির দোকান ছিল খুবই কম। এসব দোকানে বিখ্যাত কাঁচাগোল্লা ছাড়াও অবাক সন্দেশ, রাঘবশাহী, চমচম, রাজভোগ, রসমালাই, পানিতোয়া প্রভৃতি মিষ্টি ছিল অন্যতম। তবে এর মধ্যে সবার শীর্ষে উঠে আসে কাঁচাগোল্লা। ফলে সে সময় জমিদারদের মিষ্টিমুখ করতে ব্যবহৃত হতো এই বিখ্যাত কাঁচাগোল্লা। এমনকি বিলেতের রাজ পরিবার পর্যন্ত এই কাঁচাগোল্লা যেত। আরও যেত ভারতবর্ষের সর্বত্র। রাজশাহী গেজেট পত্রিকাতেও কাঁচাগোল্লার সুখ্যাতির কথা বলা হয়েছে।

কলকাতার বিভিন্ন পত্র-পত্রিকাতে সেই সময় কাঁচাগোল্লার সুখ্যাতি নিয়ে লেখালেখি হয়েছে। ১৮৪০ সালে দিঘাপতিয়ার রাজা প্রসন্ননাথ রায় কৃষ্ণ উত্সবে আসা ভক্তদের কাঁচাগোল্লা দিয়েই আপ্যায়িত করেন। তখন প্রতি সের কাঁচাগোল্লার দাম ছিল তিন আনা। কলকাতা এবং নাটোর শহর একই সময় প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ও এই দুই শহরের ঘনিষ্ঠ সার্বক্ষনিক যোগাযোগ থাকায় নাটোরের কাঁচাগোল্লার কথা ভারত, ইংল্যান্ডসহ তৎকালীন বিভিন্ন রাষ্ট্রে নাটোরের কাঁচাগোল্লার কথা ছড়িয়ে পরে। এভাবেই কাঁচাগোল্লা পায় আন্তর্জাতিকতা।

বিখ্যাত কাঁচাগোল্লা তৈরির উপকরণ ঃ ছানা, চিনি ও এলাচ দিয়ে তৈরি হয়।

কাঁচাগোল্লা তৈরির প্রস্তুত প্রণালী ঃ
এটি তৈরি উপকরণসমূহ হচ্ছে: ছানা, মাওয়া, এলাচগুঁড়া, চিনি। মাওয়ার জন্য: দুধ, ঘি, পানি।
কাচা গোল্লা প্রধানত দুই ধাপে তৈরি হয়:
১ম ধাপ দুধ থেকে ছানা তৈরিঃ
দুধ ও পানি একত্রে মিশিয়ে একটি কড়াইতে জ্বাল দিতে হয়। মিশ্রণ ফুটতে থাকলে নাড়তে হয়। ৫ থেকে ৬ মিনিট পরে অল্প অল্প করে সিরকা মিশাতে হবে এবং নাড়তে হয়। দুধ জমাট বাঁধতে শুরু করলে ও যখন হালকা নরম হয় তখন সবুজ রঙের পানি আলাদা হবে, তখন পাত্রটি নামাতে হয়। ছানার পানি ঝরাতে তা একটি ঝাঁঝারিতে রাখতে হয়।

পরবর্তীতে ছানা একটি সিল্কের কাপড়ে বেঁধে সারা রাত ঝুলিয়ে রাখা হয়। এসময় কাপড় পেঁচিয়ে চাপ প্রয়োগ করেও পানি বের করা হয়। পানি বের করে ছানা একটি কাঠের পাটাতনে রেখে হাতের চাপ প্রয়োগ করে মিহি ছানা তৈরি করা হয়।
২য় ধাপ ছানা থেকে কাঁচাগোল্লা তৈরিঃ-
ছানা ৩ ভাগে ভাগ করতে হয়। প্রথমে ২ ভাগ একটি পাত্রে মাঝারি আঁচে জ্বাল দিতে হয়। ছানার পানি বেরিয়ে আসলে হালকা নরম হলে মৃদু আঁচে অল্প চিনি দিয়ে জ্বাল দিতে হয়। কিছুক্ষন পরে চিনি মিশ্রিত ছানা আঠালো ভাব নেয় তখন বাকি ১ ভাগ ছানা মিশিয়ে নাড়তে হয়। এ সময় ক্রিম ও এলাচ গুঁড়া মিশিয়ে জ্বাল দিতে হয়। কিছু পরে হালকা গরম থাকতেই মসৃণ করে ছেঁকে ঠান্ডা করতে হয়। এরপর ঐ তৈরি মিষ্টান্নকে গুড়ো গুড়ো অবস্থায় কাঁচাগোল্লা হিসেবে বিক্রি করা হয়।

kachagolla
ত্রিফলা-পাউডার

ত্রিফলা পাউডার

সাধারণত আমলকি, হরিতকি এবং বহেরা একসঙ্গে মিশ্রণ করে বানানো হয় এই ঔষধিটি, যাতে একাধিক ভিটামিন এবং মিনারেল ছোট-বড় নানা রোগ নিরাময়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে এতে উপস্থিত গ্যালিক অ্যাসিড, ইলেগিক অ্যাসিড এবং চেবুলিনিক অ্যাসিড ত্বক এবং চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও কাজে আসে।

ক্ষত সেরে যায় চোখের নিমেষেয় অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটারি এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদানে টাসা হওয়ার কারণে এই মিশ্রনটি খাওয়া শুরু করলে শরীরের এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যে ক্ষত সারতে খুবই কম সময় লাগে । এই কারণেই তো ছোট বাচ্চাদের নিয়মিত এই আয়ুর্বেদিক মিশ্রনটি খাওয়াতে পারেন ।

আপনার রক্তচাপ কি ওঠানামা করে? তাহলে নিয়মিত ত্রফলা খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে খুবই কম সময় লাগবে । এই মিশ্রনটিতে লাইনোলিক অ্যাসিড, শরীরে প্রবেশ করা মাত্র এমন খেল দেখায় যে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা কমে।

আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম? নিয়মিত ত্রিফলা খাওয়া শুরু করেন দেহের পুষ্টি উপাদানের মাত্রা এতটা বেড়ে যায় যে তার প্রভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না। ফলে ছোট-বড় রোগব্যাধির প্রকোপ কমে চোখের নিমেষে।

ক্যান্সারকে কাছেই আসতে দেয় না :- নিয়মিত খালি পেটে এই আয়ুর্বেদিক চূর্ণটি খাওয়া শুরু করলে শরীরের এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যে ক্যান্সার সেল জন্ম নেওয়ার কোনও সুযোগই পায় না। আর একবার যদি জন্ম নিয়েও ফেলে তাহলেও তার বৃদ্ধি আটকে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই মারণ রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না।

খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করে :- ত্রিফলার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট একদিকে যেমন এল ডি এল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। তেমনি হৃদপিণ্ডে যাতে কোনওভাবেই প্রদাহ সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কোনও ধরনের করনারি আর্টারি ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।

কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রকোপ কমায় :- সকালটা যদি আপনার কাছে অভিশাপের সমান হয়, তাহলে আজ থেকেই ত্রিফলা চুর্ন খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার মিলবে। যে বাওয়েল মুভমেন্টের উন্নতি ঘটানোর মধ্যে দিয়ে কনস্টিপেশনের মতো রোগের চিকিৎসায় এই আয়ুর্বেদিক মিশ্রনটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। কোলোনকে পরিশুদ্ধ করার মধ্যে দিয়ে আরও নানা ধরনের রোগের আশঙ্কা কমাতেও ত্রিফলার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।

ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমে :- অতিরিক্ত ওজনরে কারণে যদি চিন্তায় থাকেন, তাহলে ডায়েট কন্ট্রোলের পাশাপাশি আপনার প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত ত্রফলা চুর্ণ। কারণ নিয়মিত এই প্রাকৃতিক উপাদানটি গ্রহণ করলে বাওয়েল মুভমেন্টের উন্নতি ঘটে। সেই সঙ্গে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটার কারণে শরীরে মেদ জমার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন কমতে শুরু করে।

দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে :- এক গ্লাস গরম পানিতে ১-২ চামচ ত্রিফলা গুঁড়ো মিশিয়ে সারা রাত রেখে দিন। পরদিন সকালে উঠে পানিটা ছেঁকে নিয়ে ভালো করে চোখ পরিষ্কার করুন। এইভাবে নিয়মিত চোখের পরিচর্যা করতে পারলে দেখবেন দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটবে। সেই সঙ্গে চোখের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও যাবে কমে।

অ্যাংজাইটি এবং স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে চলে আসে :- নিয়মিত খালি পেটে ত্রিফলা খাওয়ার অভ্যাস করলে শরীরের অন্দরে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যা ব্রেন পাওয়ার বাড়ানোর পাশাপাশি মানসিক ক্লান্তি এবং স্ট্রেস কমাতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়।

অর্ডার করুন

করোনাভাইরাস এর প্রতিষেধক হিসেবে নিশিন্দা গাছের ব্যবহার এবং নিশিন্দা গাছের ঔষধি গুণ ও উপকারিতা

নিশিন্দা
নিশিন্দা গাছ

নিশিন্দা হলো এক ধরনের ছোট পর্ণমোচী গাছ বা উদ্ভিদ । নিশিন্দার ইংরেজি নামঃ Chaste Tree । বৈজ্ঞানিক নামঃ Vitex negundo । এই গাছটির উচ্চতা পাঁচ মিটার বিশিষ্ট পর্যন্ত হতে পারে । নিশিন্দা গাছের ফুল হয় নীলচে বেগুনী রঙের । এই গাছটি বিশ্বের সকল দেশেই জন্মায় । নিশিন্দা গাছের পাতা ,শীকর, ফুল এবং ফল সবকিছুই বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে ।

  • নিশিন্দা গাছের পাতা গরম পানির মধ্যে ভিজিয়ে ক্রনিক ব্যথা,বাত, মাথা ব্যাথা এবং বিভিন্ন রোগের ঔষধ হিসেবে এটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে ।
  • এছাড়াও নিসিন্দার ব্যবহার রয়েছে হাঁপানি ,চমের্রাগ ও ঠান্ডা জনিত রোগের জন্য বিশেষ কার্যকরী অবদান ।
  • নিশিন্দার পাতা গরম করে যেকোনো ফোলা, মচকানোর বা শরীরের যেকোনো ব্যথা ক্ষতস্থানে রেখে কাপড় দিয়ে বেঁধে দিয়ে দিনে ৪/৫ বার ব্যবহার করার ফলে দু-এক দিনের মধ্যে তার ফল পাওয়া যাবে ।
  • শরীরের যে কোন স্থানে টিউমার দেখা দিলে সেখানে নিশিন্দা পাতা বেটে গরম করে প্রতিদিন লাগালে কিছুদিনের মধ্যে সেই টিউমার ভালো হয়ে যাবে ।
  • নিশিন্দা পাতায় পরজীবী নাশক এবং যক্ষ্মা ও ক্যান্সারবিরোধী বিশেষ ধরনের গুণ রয়েছে ।

এছাড়াও অনেক ডক্টর ও বিজ্ঞানীরা এখন গবেষণার মাধ্যমে জানিয়েছে যে নিশিন্দা গাছ করোনা ভাইরাস প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।তবে এই বিষয়টি নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে । সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া করণা ভাইরাস রোগের চিকিৎসার ওষুধ হিসেবে নিশিন্দা গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের একদল গবেষক । তাদের সবার ধারণা গবেষণায় তারা পেয়েছেন এই নিশিন্দা গাছটিতে বিভিন্ন ঔষধি উপাদান রয়েছে, যে উপাদান গুলো করনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে ।

ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ – ইউডার বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের গবেষণায় এই তথ্যটি খুঁজে পাওয়া যায় । তবে এক্ষেত্রে তারা আরও জানিয়েছেন যে,এ বিষয়টি নিয়ে গবেষণাগারে আরো কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে । তবে এ থেকে আশাবাদ করা যায় যে ,নিশিন্দা নামের ঔষধি গাছটি বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে কাজ করতে সক্ষম রয়েছে ।

এছাড়াও কম্পিউটার স্টাডিজ বলছে এই নিশিন্দা গাছটির মধ্যে এমন কিছু কেমিক্যাল কম্পাউন্ড রয়েছে যা করোনাভাইরাস কে নিষ্ক্রিয় করার ক্ষমতা বিদ্যামান ।তার মূল প্রসঙ্গে তিনি জানান : যে কোন ভাইরাস বা করোনাভাইরাস বিভিন্ন প্রোটিন দিয়েই গঠিত হয়ে থাকে । এমন কিছু প্রোটিন আছে যা যে কোন ভাইরাসের বংশ বিস্তার করে রোগ ছড়াতে সহায়তা করে । এমন কোন প্রোটিনের সঙ্গে যদি ছোট কোন যৌগিক পদার্থ যুক্ত করে দেয়া হয়, ফলে প্রোটিন কোন ভাবে কাজ করতে পারে না ,ফলে ভাইরাসের বংশবিস্তার ঘটে না । কোন কোন যৌগিক পদার্থ গুলো ভাইরাসের প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত হবে সেগুলো কম্পিউটারের বিভিন্ন প্রোগ্রাম দ্বারা নির্ণয় করা যায় । বিভিন্ন পদ্ধতিতে গবেষণার মাধ্যমে তারা নিশিন্দা গাছের মধ্যে পেয়েছেন ভিটেক্সিন ,আইসো ভিটেক্সিন এবং অ্যাপিজেনিন নামের তিনটি যৌগিক পদার্থ । যেগুলো দ্বারা নভেল করোনাভাইরাসের সি-৩ প্রোটিনের সঙ্গে সহজেই যুক্ত হতে পারে। তবে তার আগে এটা গবেষণাগারে ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রয়োগ পরীক্ষা-নিরীক্ষার আরো অনেক প্রয়োজন আছে ।

এছাড়াও নিশিন্দা গাছের অনেক গুণ রয়েছে :

  • এই গাছের ডালপালা ব্যবহার করার মাধ্যমে পোকামাকড় রোধ করতে সাহায্য করে । তাই কৃষি জমিতে বহুকাল ধরে রয়েছে এর জৈবের ব্যবহার ।
  • নিশিন্দার পাতা গুড়া করে সিসি পরিমাণ পান করলে গুড়া ক্রিমির উপদ্রব কমে যায়।
  • নিশিন্দা পাতা বেটে বা পাতার রস করে সরিষার তেলের সঙ্গে মিক্স করে কানে দুই এক ফোটা দিলে কানের যেকোনো রোগ ভালো হয়ে যায় ।
  • এছাড়াও নিশিন্দা গেঁটে বাত সারাতে সহায়তা করে ,তবে উচ্চ রক্তচাপ থাকলে খাওয়া ঠিক নয়।
  • এছাড়া শরীরের মেদ কমাতেও নিশিন্দার ব্যবহার অত্যাধিক ।
  • জ্বর ,বাতজ্বর ,শয্যাক্ষত ,অনিয়মিত ঋতুস্রাব,সর্দি জ্বর ,আমাশয়,মাথায় টাক পড়া ও প্লীহা বৃদ্ধিতেও ব্যবহার করা হয় । এছাড়াও নিশিন্দা বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে ।

নিশিন্দা অর্ডার করতে নিচের লিংক থেকে অর্ডার করুন

অর্ডার করুন